জারন বিজারন বিক্রিয়া

 জারণ বিজারণের ইলেক্ট্রনীয় মতবাদ [Electronic theory of oxidation and reduction]

ভুমিকা [Introduction]:- জারণ ও বিজারণ রসায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া । সাধারণত কোনো মৌলে বা যৌগে অক্সিজেনের সংযুক্তি বা কোনো যৌগ থেকে হাইড্রোজেনের বিযুক্তিকে জারণ এবং কোনো মৌলে বা যৌগে হাইড্রোজেনের সংযুক্তি বা কোনো যৌগ থেকে অক্সিজেনের বিযুক্তিকে বিজারণ বলা হয় ।

ইলেকট্রনীয় মতবাদ [Electronic theory]:- পরমাণু সমূহের রাসায়নিক বিক্রিয়াকালে বিক্রিয়ায় অংশ নেয় এদের কিছু ইলেকট্রন । জারণ ও বিজারণও যেহেতু এই ধরনের এক প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া; সুতরাং, স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তে আসা যায়, জারণ ও বিজারণ বিক্রিয়াতে ক্রিয়াশীল পদার্থের ইলেকট্রনগুলিই অংশ নেয় । এই ধারণার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে জারণ-বিজারণ সম্পর্কিত ইলেকট্রনীয় মতবাদ ।

 জারণ [Oxidation]:-

সংজ্ঞা:- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো অণু, পরমাণু বা আয়ন এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে তাকে জারণ বলে । জারণেরঅর্থ ইলেকট্রন ত্যাগ । যেমন— Na পরমাণু বাইরের কক্ষের একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na+ আয়নে পরিণত হয় । এখানে Na পরমাণুটি একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করায় ওর জারণ হল (এক একক পরাচার্জবাহী সোডিয়াম আয়ন হয়েছে) । Na – le → Na+ (জারণ) ।

বিজারণ [Reduction]:-

সংজ্ঞা:- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো অণু, পরমাণু বা আয়ন এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বিজারণ বলে । বিজারণের অর্থ ইলেকট্রন গ্রহণ । যেমন— Cu++ আয়ন 2টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cu -এ পরিণত হয়, এখানে Cu++ আয়নের বিজারণ হল । Cu++ + 2e → (ধাতব) Cu (বিজারণ) ।

জারণ সংখ্যা [Oxidation Number]:- কোনো যৌগের মধ্যে উপাদান মৌলগুলি জারণ বিজারণের যে বিশেষ স্তরে অবস্থান করে, তা যে সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা যায়, সেই সংখ্যাকে জারণ সংখ্যা বলে । যেমন— Cu2+, Na1+, S2- ইত্যাদি আয়নগুলির জারণসংখ্যা হল যথাক্রমে +2, +1, -2 ইত্যাদি ।

জারক পদার্থ ও বিজারক পদার্থ [Oxidising and Reducing agents]:-

জারক পদার্থ [Oxidising agents]:- যে পদার্থ রাসায়নিক বিক্রিয়া কালে অন্য পদার্থকে জারিত করে নিজে বিজারিত হয় তাকে জারক পদার্থ বলে । ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী জারক দ্রব্য ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিজে বিজারিত হয় এবং অপরকে জারিত করে । বিক্রিয়ার ফলে জারক দ্রব্যের জারণ সংখ্যা হ্রাস পায় । যেমন— CuO এবং H2 -এর বিক্রিয়াটিতে জারক দ্রব্য CuO, কারণ CuO হাইড্রোজেনকে জলে জারিত করেছে এবং নিজে বিজারিত হচ্ছে ধাতব কপারে । CuO + H2 → Cu ↓+ H2O

বিজারক পদার্থ [Reducing agents]:- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় যে পদার্থ অন্য পদার্থকে বিজারিত করে নিজে জারিত হয় তাকে বিজারক পদার্থ বলে । ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী, বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিজে জারিত হয় এবং অপরকে বিজারিত করে, তার ফলে বিজারক দ্রব্যের জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । যেমন— CuO এবং H2 -এর বিক্রিয়ায় বিজারক দ্রব্য H2 ; কারণ H2, CuO -কে বিজারিত করে ধাতব কপারে এবং নিজে জারিত হয় জলে ।

 

সহজ ভাষায় জারণ ও বিজারণ এবং জারক ও বিজারক

1.জারক ও বিজারক মূলত পদার্থ ।

2.জারক ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয় ।

3.বিজারক ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়।

4.বিজারক মূলত ধাতু।

5.জারক মূলত অধাতু।

জারণ ও বিজারণ হচ্ছে বিজারক  ও জারক পদার্থের কাজ করার প্রক্রিয়ার নাম।

  1. জারণ : বিজারক যে প্রক্রিয়ায়  ইলেকট্রন ত্যাগ করে সেটি হচ্ছে জারণ ।
  2. বিজারণ : জারক  যে প্রক্রিয়ায়  ইলেকট্রন গ্রহণ করে সেটি হচ্ছে বিজারণ ।